কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরকারের ধৃষ্টতাপূর্ণ, অপরিণামদর্শী ও উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে বলে মনে করেন ১২ দলীয় জোট।
মঙ্গলবার কোটাবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নৃশংস ও বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করে ১২ দলীয় জোট।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নতুন প্রজন্মের চিন্তা জগতের মূল লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা। তাদের এই আদর্শগত আন্দোলনের গতিবেগ যখন দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে তখন সরকার মতাদর্শিক বুদ্ধিহীনতায় জাতিকে বিভক্তকরণের আত্মঘাতী খেলায় নেমেছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনে সরকার রাষ্ট্রকে দুর্বৃত্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করে গড়ে তুলেছে।
জোটের নেতারা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে আলোকিত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সরকারের ধৃষ্টতাপূর্ণ, অপরিণামদর্শী ও উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে। ভোটের অধিকার, নিরাপদ সড়কের অধিকার, চাকরির অধিকার, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে যারাই বিবেকের কণ্ঠস্বর হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে; তাদের এবং প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের স্বাধীনতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা সরকারের রাষ্ট্রীয় অপরাধ।
নেতারা বলেন, ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রক্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রক্তাক্ত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে তাদের। হামলায় আহত হয়েছেন ৫০০ শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরাও ছাত্রলীগের এই বর্বর হামলা থেকে রক্ষা পায়নি।
জোট নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে সমর্থনের আহ্বান জানান।
