রাখাল রাহার বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা, তদন্তে সিআইডি - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাখাল রাহার বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা, তদন্তে সিআইডি

জনবার্তা প্রতিবেদন
মার্চ ৩, ২০২৫ ৩:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগ এনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই সংশোধন ও পরিমার্জন কমিটির সদস্য রাখাল রাহার নামে মামলা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূরে আলমের আদালতে বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৮ ও ৩১ ধারায় এ মামলার আবেদন করেন সাজ্জাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. জুয়েল জানিয়েছেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে। বাদীর জবানবন্দি নিয়ে অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দিয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ২২ মে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তারিখ রেখেছে আদালত।

জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় রাখাল রাহাকে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এনসিটিবির পাঠ্যবই সংশোধন ও পরিমার্জন কমিটির সদস্য করা হয়, যার আসল নাম সাজ্জাদুর রহমান। তিনি লেখালেখি করেন রাখাল রাহা নামে।

সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৮ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। আর ৩১ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রণীত বহুল আলোচিত-সমালোচিত, দমন-পীড়নমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইনটি বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সরকার আগের আইনটি বাতিল করে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪ পাস করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এরই মধ্যে গত ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদে অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।

এ অধ্যাদেশে প্রত্যাশা অনুযায়ী বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও এমন কিছু বিষয় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে এবং নতুন যুক্ত করা হয়েছে, যা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে মানুষকে আশঙ্কামুক্ত করতে পারেনি।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাখাল রাহা ওরফে সাজ্জাদুর রহমান ইসলাম ধর্মকে হেয়-প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে স্ট্যাটাস দেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সাজ্জাদ হোসেন বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মতিঝিল থানায় মামলা করতে যান। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

সেই মোতাবেক সোমবার আদালতে এসে মামলার আবেদন করেন সাজ্জাদ হোসেন। এজাহারে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিও আবেদন করেন তিনি।

২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, ওয়েবসাইট বা কোনও ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এইরূপ কোনও তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার, ইত্যাদি শাস্তি।

এর উপ-ধারা (১)- এ বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এইরূপ কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যাহা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কাজ একটি অপরাধ।

উপ-ধারা (২)- এ বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করেন, তাহালে তিনি অনধিক দুই বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৩১ ধারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত।

এর উপ-ধারা (১) এ বলা হয়েছেম যদি কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এইরূপ কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যাহা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কাজ একটি অপরাধ।

উপ-ধারা (২)- এ বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করেন, তাহালে তিনি অনধিক ৫ বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।