যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ - জনবার্তা
ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ১৮, ২০২৩ ১:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নে রেহেনা খাতুন (২৪) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) রাতে কৈজুরি ইউনিয়নের ভাট দিঘুলিয়ার চর গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনালের হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল বাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের মা, বাবা, ভাই ও আত্নীয় স্বজনের অভিযোগ, রেহেনা খাতুনকে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর, দেবর, ভাশুর ও ননদ হত্যা করছে। এ ঘটনার পরই তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

নিহতের মা জহুরা খাতুন বলেন, ৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে ৭০ হাজার টাকা যৌতুকের বিনিময়ে ভাট দিঘুলিয়ার চর গ্রামের সেরাজ সরকারের ছেলে সেলিম সরকারের সঙ্গে বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের খলিল সিকদারের মেয়ে রেহেনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আরও যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই আমার মেয়ে রেহেনা খাতুনকে তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেবর, ভাসুর ও ননদ মারপিট ও নির্যাতন করে আসছিল। মেয়ের সুখের জন্য আমরা একাধিকবার এ নিয়ে শালিশ বৈঠক করে সংসার করতে দেই। ঘটনার ২/৩ দিন আগে থেকে তারা আবারও যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়েকে মারপিট ও নির্যাতন করতে থাকে। রেহেনা এর প্রতিবাদ করলে তাকে সবাই মিলে মারপিট ও গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর নিহতের শাশুড়ি বাড়িতে উপস্থিত থেকে এটি আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার শুরু করে। এ ঘটনায় পুলিশে খবর দিলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিহতের শাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রেহেনা স্বামী সেলিম সরকার (২৭), শাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন (৫০), শ্বশুর সেরাজ সরকার (৬০), দেবর ইউসুফ আলী (২৩) ও ননদ উর্মি খাতুন (২২), ভাসুর রমজান আলী (৩৫) ও চাচা পিয়ার সরকার (৬২)কে আসামী করে নিহতের মা জহুরা খাতুন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

ওসি খায়রুল বাসার বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা জহুরা খাতুন একটি এজাহার করেছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা আমরা নিশ্চিত নই। তাই মামলাটি ৩০৬ রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনালের হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।