ইমাম উল হক ও আব্দুল্লাহ শফিকের শতরানের জুটিতে বড় রান তাড়ার পথে বেশ ভালোভাবেই ছিল পাকিস্তান। হাফ সেঞ্চুরির পর তারা দুজন ফিরলেও মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইফতিখার আহমেদ মিলে আশা দেখাচ্ছিলেন। পরপর দুই ওভারে তাদের দুজনকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন অ্যাডাম জাম্পা। মিচেল মার্শ এবং ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির পর জাম্পার স্পিনে নাকাল হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬২ রানে হেরেছে পাকিস্তান।
জয়ের জন্য ৩৬৮ রান তাড়া করতে নেমে খানিকটা দেখেশুনেই ব্যাটিং করছিলেন ইমাম উল হক ও আব্দুল্লাহ। পাওয়ার প্লেতে তারা দুজনে মিলে যোগ করেন বিনা উইকেটে ৫৯ রান। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন তারা দুজন। ফলে ১৬.৪ ওভারে শতরানে পৌঁছায় পাকিস্তান।
দারুণ ব্যাটিংয়ে ৫২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন আব্দুল্লাহ। আরেক ওপেনার ইমাম উল পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৫৪ বলে। হাফ সেঞ্চুরির পরও পাকিস্তানকে টানছিলেন তারা। তবে আব্দুল্লাহকে ফিরিয়ে তাদের দুজনের ১৩৪ রানের জুটি ভাঙেন মার্কাস স্টইনিস। ডানহাতি এই পেসারের বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন ৬৪ রানের ইনিংস খেলে।
৭০ রান করা ইমাম উলকেও ফিরিয়েছেন স্টইনিস। জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি বাবর আজম। জাম্পার বলে ফিরে গেছেন ১৮ রান। আরেক ব্যাটার সাউদ শাকিল আউট হয়েছেন ৩০ রান করে। রিজওয়ান ও ইতফিখার আশা দেখালেও পাকিস্তানকে জেতাতে পারেননি। রিজওয়ান ৪৬ এবং ইফতিখার ২৬ রান করে ফিরলে শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের জয়ের স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত তারা অল আউট হয় ৩০৫ রানে।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলীদের বিপক্ষে দেখেশুনেই ব্যাটিং করছিলেন ওয়ার্নার এবং মার্শ। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ফিরে যেতে পারতেন ওয়ার্নার। শাহীন আফ্রিদির ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে পুল করতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তবে টপ এজ হওয়ায় মিড উইকেটে ক্যাচ উঠে। যদিও সেটা লুফে নিতে পারেননি উসামা মীর। জীবন পেয়ে নিজের স্বভাবসূলভ ক্রিকেট খেলতে থাকেন তিনি।
চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দিয়ে পাওয়ার প্লেতে কোন উইকেট না হারিয়ে ৮২ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৩৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ওয়ার্নার। সমানতালে রান করা মার্শ পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৪০ বলে। এদিকে ২০.২ বলে দেড়শ রান ছুঁয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। দুইশ রান করতে অজিদের খেলতে হয়েছে ২৯.২ ওভার। জীবন পাওয়ার পর থেকে দারুণ ব্যাটিং করা ওয়ার্নার সেঞ্চুরি করেছেন ৮৫ বলে।
এবারের বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। একই ওভারে তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল ফিগার ছুঁয়েছেন মার্শ। ডানহাতি এই ওপেনারকে খেলতে হয়েছে ১০০ বল। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। শাহীন আফ্রিদির বলে ফ্লিক করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে থাকা উসামার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১২১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে। পরের বলে আউট হয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। শাহীন আফ্রিদিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন।
এদিকে ১১৬ বলে দেড়শ ছোঁয়া ওয়ার্নার আউট হয়েছেন ১৬৩ রানের ইনিংস খেলে হারিস রউফকে উইকেট দিয়ে। শেষ দিকে মার্কাস স্টইনিস, জশ ইংলিস, মার্নাশ ল্যাবুশেনরা সুবিধা করতে না পারায় ৩৬৭ রানে থামতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। পাকিস্তানের হয়ে একাই ৫ উইকেট নিয়েছেন শাহীন আফ্রিদি। এ ছাড়া হারিস নিয়েছেন তিনটি উইকেট।
