ভারতে মুসলিম ছাত্রকে মারতে বলছেন হিন্দু শিক্ষিকা! (ভিডিও ভাইরাল) - জনবার্তা
ঢাকা, বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারতে মুসলিম ছাত্রকে মারতে বলছেন হিন্দু শিক্ষিকা! (ভিডিও ভাইরাল)

জনবার্তা প্রতিবেদন
আগস্ট ২৬, ২০২৩ ১:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ক্লাসের মুসলিম শিক্ষার্থীধের চড় মারতে হিন্দু শিশুদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন এক শিক্ষিকা। ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের এক স্কুলের এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।

দ্য ওয়াল ও হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। তবে ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সেই শিক্ষিকা ক্লাসের শিক্ষার্থীদের বলছেন, ‘আমি ঘোষণা করছি যে ক্লাসে যত মহামেডন বাচ্চা আছে তাদেরকে যেন একটা করে চড় মারা হয়। এক জন ছাত্র উঠে এসে ওই শিশুটির গালে থাপ্পড় মারছে।’

আবার এও দেখা যাচ্ছে যে আস্তে থাপ্পড় মারলে শিক্ষিকা রেগে যাচ্ছেন। বলছেন, এভাবে কি মারছ? জোরে মারো। এভাবে একের পর এক ছাত্র যখন ওই মুসলিম শিশুটিকে মারছে তখন সে হাউমাউ করে কাঁদছে।

ফুটেজটি ভাইরাল হতেই মুজফ্ফরনগর পুলিশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মনসুরপুর পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে থানার ইনচার্জকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, যে শিশুটিকে মারা হয়েছিল, সে নাকি নামতা মুখস্ত বলতে পারেনি।

https://twitter.com/AJEnglish/status/1695163483132711178?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1695163483132711178%7Ctwgr%5Eec579787d809174a0eb7b0461d1567c09847f161%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fdhakamail.com%2Finternational%2F115986

খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মুজফ্ফরনগরের খুব্বাপুরের নেহা পাবলিক স্কুলে। ওই মুসলিম ছাত্রটির বাবার খোঁজও পাওয়া গেছে। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে তিনি গিয়েছিলেন। ওই শিক্ষিকা ক্ষমা চেয়েছেন।

ওই শিক্ষার্থীর বাবা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সমাধান হয়েছে যে- তিনি তার ছেলেকে আর ওই স্কুলে পাঠাবেন না। এছাড়া ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ করবেন না।

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘শিশুটির সাথে যা ঘটেছে তার জন্য দায়ী আদিত্যনাথ। সম্ভবত এরপর তিনি এই অপরাধীকে লখনউতে আমন্ত্রণ জানাবেন এবং তাকে পুরস্কৃত করবেন। কত মুসলিম শিশু নীরবে এমন অপমান সহ্য করতে বাধ্য হয়েছে তার হিসেব নেই। স্কুলে মুসলিম শিশুদের জিহাদি বা পাকিস্তানি বলাটা প্রচলন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ভারতীয় রাজনীতিবীদ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিক শশী থারুর লিখেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। আমি বিশ্বাস করতে পারি না যে এটি আমাদের দেশে ঘটছে। আর যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে এখনও গ্রেফতার হয়নি। এই ঘটনায় সমস্ত ভারতীয়দের মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে লজ্জায়। এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমস্ত সাংবিধানিক অধিকার এবং স্বাধীনতাকে কেড়ে নিতে পারে।’