ভারতের উদ্বেগের কারণ চীনপন্থি শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারতের উদ্বেগের কারণ চীনপন্থি শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট

জনবার্তা প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৪ ৪:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাম জোটের নেতা অনুরাকুমার দিশানায়েকে বিজয়ী হয়েছেন এবং দক্ষিণের দ্বীপরাষ্ট্রটির দশম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

বামপন্থী দল জনতা বিমুক্তি পেরামুনার (জেভিপি) পলিটব্যুরো সদস্য দিশানায়েকে ভারতবিরোধী এবং চীনপন্থি হিসেবে পরিচিত, যা নয়াদিল্লীর কূটনীতিকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় দেশটির প্রধান বিচারপতি জয়ন্ত জয়সূর্য নতুন প্রেসিডেন্টকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

দিশানায়েকে দ্বিতীয় রাউন্ডের গণনায় ৪২ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সংসদের বিরোধী দলনেতা সাজিথ প্রেমদাসা, যিনি পেয়েছেন ৩২ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে পেয়েছেন ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট। তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।

দিশানায়েকে শ্রীলঙ্কার বামপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। জেভিপির প্রতিষ্ঠাতা রোহানা উইজেভেরা ১৯৮০-এর দশকে ভারতকে শ্রীলঙ্কার প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে উস্কানি দিয়েছিলেন।

১৯৮৭ সালে ভারত-শ্রীলঙ্কা চুক্তির বিরোধিতা করে জেভিপি সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে, যা শ্রীলঙ্কার সরকারকে সেনা নামিয়ে দমন করতে হয়েছিল।

যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দিশানায়েকে ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার কথা বলছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি নয়াদিল্লী সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময়ে তিনি বলেছিলেন, ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রীলঙ্কার বর্তমান ঋণখেলাপি পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ভারতের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দিশানায়েকে হয়তো তার ভারতবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেন। এছাড়া, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের ওপর চীনের দখল এবং সেখানে ভবিষ্যতে চীনা যুদ্ধজাহাজের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

অনুরাকুমার দিশানায়েকের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী দীনেশ গুণবর্ধনে পদত্যাগ করেছেন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে আসছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।