বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন ছাত্রদলের ছয় নেতা। এমনটা দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এমন খবরে তাঁকে খুঁজতে বের হয়ে আরও পাঁচ নেতার হদিস মিলছিল না বলে অভিযোগ করে বিএনপি।
আজ রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে গ্রেপ্তার বিষয়ে কথা বলেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও ডিবি-উত্তর) খোন্দকার নুরুন্নবী।
খোন্দকার নুরুন্নবী বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে লালবাগ থানার বাসা নং-৩৮ /১ /এ-এর তৃতীয় তলায়। বিশেষ অভিযান চালিয়ে গতকাল তিনটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৬ রাউন্ড গুলিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহর দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে এক রাউন্ড গুলি ভর্তি অবস্থায় একটি লোহার তৈরি কাঠের বাঁটযুক্ত পিস্তল, তাঁদের কাঁধে থাকা ব্যাগের ভেতরে আট রাউন্ড গুলি ভর্তি অবস্থায় একটি লোহার তৈরি কাঠের বাঁটযুক্ত টপ ব্রেক রিভলবার, একটি কালো রঙের প্লাস্টিকের বক্সের ভেতরে ১৯ রাউন্ড গুলি, আট রাউন্ড গুলি ভর্তি অবস্থায় একটি লোহার তৈরি কাঠের বাঁটযুক্ত টপ ব্রেক রিভলবার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ছাত্রনেতাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে যুগ্ম-কমিশনার আরও বলেন, বিএনপির হাইকমান্ড এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হাইকমান্ডের নির্দেশে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসমূহ রাজপথে বিএনপির শক্তি বৃদ্ধি করতে ছাত্রদলের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়ার উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে লালবাগে তাঁরা অবস্থান করছিল। আজ তাঁদের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার ছাত্রনেতাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে সেখানে বিভিন্ন অস্ত্র ও জব্দ হওয়া অস্ত্রের ছবি দেখতে পাই। জিজ্ঞাসাবাদে কার কাছ থেকে এবং কোথা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করেছে, সেই তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে নুরুন্নবী বলেন, তারা একটি অস্ত্র টেকনাফ থেকে আর দুটি অস্ত্র পাবনা থেকে সংগ্রহ করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি, তাঁদের অস্ত্র সংগ্রহ করার আলাপ। যারা অস্ত্র সাপ্লাই দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান চলছে।’
জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁরা নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেসহ দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শুক্রবার ছাত্রদলের এই নেতাদের ডিবি তুলে নিয়ে যায়—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘মামলার এজাহারে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেভাবেই আমরা তাঁদের গ্রেপ্তার করেছি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
সরকারি দলের অনেক নেতা-কর্মী অস্ত্রসহ অনেক সময় ধরা পড়েন বা তাঁদের দেখা যায়। তাঁদের বিষয়ে আপনারা কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না বা নিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে ডিবির এই কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে যান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম ওরফে ফজিসান (৩১), বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ (৩০), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. হাসানুর রহমান হাসান (৩২), ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাদত হোসেন (৩১), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর (৩২) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আর রিয়াদ (২১)।
