গাজা উপত্যকায় আটক শতাধিক ফিলিস্তিনি পুরুষদের চোখ বাঁধা, অর্ধনগ্ন ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তাদেরকে আটকের পর গাজার রাস্তায় বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। সামাজিক মাধ্যমে এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দায় সরব হয়েছে ইরান, সৌদি আরবসহ মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো। এ ছাড়া ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেড ক্রসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোর কোনোটিতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার ওপর ফুটপাতে পুরুষদের কেবল অন্তর্বাস পরিয়ে, পেছনে হাত বেঁধে বসিয়ে রাখা হয়েছে। পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পাহাড়া দিচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।
অন্য একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গাজায় আটক পুরুষদের চোখ বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা ইজ্জাত আল রেশিক বলেন, নিরীহ নাগরিকদের ওপর যে নৃশংস অত্যাচার করছে ইসরায়েল বাহিনী, এটা তার অন্যতম নজির। ইসরায়েলের হাতে বন্দি এই পুরুষদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন বলে তিনি জানান।

ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) বলেছে, এই ছবিগুলো উদ্বেগের বিষয় এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে সমস্ত বন্দীদের অবশ্যই মানবতা এবং মর্যাদার সাথে আচরণ করা উচিত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাইয়ান ইসরায়েলের সমালোচনা করে বলেছেন, নিরাপরাধ বন্দী ও নাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ ইসরায়েলের বর্বরতার প্রতীক।
ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র আইলন লেভি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ছবি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, গাজার জাবালিয়া ও সেজাইয়া হলো হামাসের শক্ত ঘাঁটি। সেখানে আটককৃতরা আন্ডারগ্রাউন্ডে লুকিয়ে ছিল এবং ইসরায়েলি সেনারা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করেছে।
তিনি বলেন, এই এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের এক সপ্তাহ আগে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে যাদের আটক করা তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবেই গণ্য করা হয়েছে।



