পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩ সেনা নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ জুন) এই হামলা হয়। স্থানীয় একজন সরকারি কর্মকর্তা একটি বার্তা সংস্থাকে এ তথ্য জানান।
জানা গেছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি সামরিক কনভয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ১৩ সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ১০ সেনা আহত হন। এছাড়া ১৯ জন বেসামরিক নাগরিকও আহত হন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি সামরিক বহরে ঢুকিয়ে দেয়। বিস্ফোরণে ১৩ জন সেনা নিহত, ১০ জন সেনা সদস্য এবং ১৯ জন বেসামরিক লোক আহত হন। বিস্ফোরণে আশেপাশের বাড়িগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিযুক্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘বিস্ফোরণের ফলে দুটি বাড়ির ছাদও ধসে পড়ে। এতে ছয় শিশু আহত হয়েছে।’
এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তবে এই অঞ্চলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ঘন ঘন হামলা চালায়। এতে অস্থিরতা তৈরি হয়।
পাকিস্তান জুড়ে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা বাড়ার মধ্যে সর্বশেষ আত্মঘাতী বোমা হামলাটি ঘটল।
এদিকে, জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, এই বছরের মার্চ মাসে, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের জান্দোলা চেকপোস্টের কাছে ফ্রন্টিয়ার কর্পস ক্যাম্পে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী টিটিপির সাথে জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে হত্যা করার দাবি করে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের চার প্রদেশ ও তিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান— এ দু’টি প্রদেশে গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও হামলার নাটকীয় উল্লম্ফন ঘটেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া মূলত পাকিস্তানপন্থি তালেবানগোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটি অঞ্চল। অন্যদিকে বেলুচিস্তানে ব্যাপকভাবে তৎপর বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। দুই গোষ্ঠীরই চূড়ান্ত লক্ষ্য খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানকে পাকিস্তানের মানচিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
২০২১ সালে তালেবানগোষ্ঠী কাবুলে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসী হামলার উল্লম্ফন ঘটেছে হচ্ছে পাকিস্তানে। গত বছর ২০২৪ সাল ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। ২০২৪ সালের বছরজুড়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ৪৪টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শতকরা হিসেবে গত এক দশকের মধ্যে ২০২৪ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার হার ছিল ৪০ শতাংশ বেশি।
এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৮৫ জন সেনা এবং ৯২৭ জন বেসমরিক মানুষ। বিপরীতে গত বছর সেনা-পুলিশ যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছে ৯৩৪ জন সন্ত্রাসী।
