পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা, সংঘর্ষ - জনবার্তা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা, সংঘর্ষ

জনবার্তা প্রতিবেদন
আগস্ট ২৯, ২০২৫ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের ধুন্ধুমার কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমের হাতে ইতোমধ্যেই যে ভিডিও এসেছে- তাতে দেখা যাচ্ছে, দুই দলের কর্মীরা দলীয় পতাকার ডান্ডা দিয়ে একে অপরকে মারছেন। দুই রাজ্যেই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয় দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। তবে এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি কাউকেই। গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেস।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ‘ভোটার অধিকারের যাত্রা’ চলাকালীন দরভাঙ্গায় কংগ্রেসের পতাকা গায়ে জড়ানো এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশ্লীল মন্তব্য করেন। ওই ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

দরভাঙ্গা পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক্স-এ দারভাঙ্গা পুলিশ লিখেছে, ‘সিমরি থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করা হচ্ছে।’

আজ শুক্রবার বিহারের পাটনায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে শামিল হয় বিজেপি। পাল্টা কংগ্রেস কর্মীরাও মাঠে নামতেই দুই শিবিরের মধ্যে মারপিট লেগে যায়। সামাল দিতে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও পাটনায় রয়েছে থমথমে পরিস্থিতি।

এদিকে বিহারের আঁচ এসে পড়ে কলকাতাতেও। কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্য সদরদপ্তর বিধান ভবনের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে বিজেপি। বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালীন একদল বিজেপি সমর্থক কংগ্রেস দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে ভবনের বাইরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বলেও অভিযোগ।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ছবিসহ একাধিক ব্যানার, পোস্টারও ছেড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এন্টালি থানায়।

পুরো ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতিতে দেউলিয়া না হলে কেউ এ কাজ করে না। গোটা দেশে কংগ্রেস যেহেতু বিজেপির চুরি ধরছে; তাই তাদের রাগ আমাদের দলের ওপর। এই কাজ করার জন্য এমন একটা সময় তারা বেছে নিয়েছে যখন দপ্তর ফাঁকা ছিল। আমরা রাজ্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দোষীদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষের অভিযোগ, ঘটনায় সরকারেরই মদদ রয়েছে। নীতীশ কুমার ভুল করছেন। আমরাও জবাব দেব।

এদিকে বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, মায়ের অপমানের বদলা বাংলার প্রতিটি ছেলে কংগ্রেসকে দেবে। এর জবাব আমরা অবশ্যই নেব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া ভাষায় নিন্দা করে লেখেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে। একজন গরিব মায়ের ছেলে ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী পদে বসে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা তারা মেনে নিতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রীকে এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে এই ধরনের ভাষা কেবল লজ্জাজনকই নয়, গণতন্ত্রের উপরও কলঙ্ক।’

বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা লেখেন, এ ধরনের অশালীন আক্রমণ সব সীমা ছাড়িয়েছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও। তার বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করা অনুচিত। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি।’