সদর উপজেলার সিংগা শোলপুর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের ইমাম শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ইতি বেগম (৩৮) এর গলা কাটা মরদেহ উদ্বার করেছে পুলিশ। রোববার (২১এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইতি বেগমের গলা কাটা মরদেহ তারই ভাড়াটিয়ার ঘর থেকে উদ্ধার করে। নিহতের স্বামী শফিকুল ইসলাম লোহাগড়া উপজেলার মোচড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের ইমাম হিসাবে কর্মরর্ত আছেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, সন্তানহীন ইমাম শফিকুল ইসলামে স্ত্রী ইতি বেগম বাড়িতে একা থাকতেন। শফিকুল ইসলাম লোহাগড়া উপজেলার একটি মসজিদের ইমামতী করার কারনে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। আর সময় পেলে ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসতেন। বছর খানেক আগে কাজের সন্ধানে পরিবার নিয়ে বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকা থেকে মনিরুল ইসলাম নামের এক দিনমজুর এই এলাকায় আসেন। তাকে ইমাম শফিকুল ইসলাম নিজের বাড়ির ফাকা একচালা ঘরটি ভাড়া দেন। গত দুই মাস আগে ভাড়াটিয়া মনিরুল ইসলাম তার পরিবার কে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে নিজে কাজের তাগিদে ওই বাড়িতে অবস্থান করেন। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ইমাম শফিকুল ইসলাম গত ১৭ এপ্রিল নিজের কর্মস্থল লোহাগড়ার মোচড়ায় চলে আসেন।
গত শুক্রবার (১৯এপ্রিল) সকাল থেকে প্রতিবেশীরা ইমাম দম্পতির ঘরসহ ভাড়াটিয়ার ঘরে তালা ঝুলতে দেখেন। পরদিন শনিবার ইমামের স্ত্রীকে বাড়িতে না পেয়ে স্বজনরা তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। শফিকুল ইসলাম বলেন গ্রামে একাধিক আত্মীয়বাড়ি থাকায় স্ত্রী হয়তো কোন বাড়ি বেড়াতে গিয়েছেন। এর আগেও একাধিকবার ইতি বেগম সপ্তাহ খানেকের জন্য আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে গিয়েছেন বলেই স্ত্রী কে নিয়ে তিনি কোন প্রকার দুশ্চিন্তা করেননি।
রোববার রাত থেকে ইমাম সাহেবের বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজন ইমাম শফিকুল ইসলামসহ পুলিশ কে সংবাদ দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভাড়াটিয়া মনিরুল ইসলামের ঘরের খাটের নিচ থেকে ইমামের স্ত্রী ইতি বেগমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।
ইমাম শফিকুল ইসলাম সোমবার (২২এপ্রিল) সকালে বলেন,আমি সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একটি মসজিদের ইমামতী করছি। সন্তান হয়নি তা নিয়ে আমাদের মধ্যে ভালবাসার কমতি ছিলোনা। বিশ্বাস করে ভাইয়ের যায়গা দিয়ে মনিরুল কে বাড়িতে থাকতে দিয়ে ছিলাম। সে আমার বিশ্বাস নষ্ট করে আমার পরহেজগার স্ত্রীকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে বাড়ি লুট করে চলে গেলো।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোমবার (২২এপ্রিল)সকালে বলেন, রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইমাম শফিকুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া মনিরুলের ঘরের খাটের নিচ থেকে ইতি বেগমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করি। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত হাইশো(বড় কাস্তে) আলামত হিসাবে জব্দ করি। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহসদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সন্দেহের তালিকায় থাকা পলাতক মনিরুল ইসলাম কে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
