নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথের কর্মসূচি পালনে দেশের সর্বাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছে খুলনা অঞ্চলের বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখ ৪২ হাজার ৮২৫টির বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ৫০ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৫ জনের অধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা এবং আসামি রয়েছে খুলনা বিভাগে। গেল বছরের ২৮ অক্টোবরের পর থেকে রাজপথে বড় পরিসরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। পুলিশের দায়েরকৃত অর্ধশতাধিক নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় খুলনা বিএনপি’র সহস্রাধিক নেতা-কর্মী উচ্চ আদালতের আগাম জামিন পেয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের আত্মগোপন থেকে বের হচ্ছেন খুলনা বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা। তবুও থেমে নেই গ্রেফতার; সোমবার দিবাগত রাতে দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইমাম হোসেনকে গ্রেফতার করে গতকাল জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রমতে, খুলনা বিভাগে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের নামে ২৬ হাজার ৮৭১টি মামলা রয়েছে। আসামি ৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৩ জন। এরপরে মামলা বেশি রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে মামলা রয়েছে ১৫ হাজার ৭৯টি। তবে ঢাকার চেয়ে রাজশাহীর বিভাগে আসামির সংখ্যা বেশি। এই বিভাগে আসামি হয়েছেন ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬৫ জন। আবার রাজশাহীর চেয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের মামলার সংখ্যা বেশি। এ বিভাগে মামলা রয়েছে ১৩৪৮২টি।
খুলনা বিভাগে মামলা ২৬ হাজার ৮৭১টি এবং আসামির সংখ্যা ৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৩ জন। এর মধ্যে খুলনা মহানগর ও জেলায় ১২ হাজার ১৬৮টি মামলায় আসামি ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭০৪ জন, সাতক্ষীরাতে মামলা ২ হাজার ৫৭৭টি এবং আসামি ৫৬ হাজার ৯৭১ জন, মাগুরাতে মামলা ১ হাজার ৬৮৮টি এবং আসামি ৫৫ হাজার ৮৪৩ জন, ঝিনাইদহে মামলা ১ হাজার ৬৪২টি এবং আসামি ৬৬ হাজার ৮০ জন, মেহেরপুরে মামলা ১ হাজার ২০৫টি এবং আসামি ৬০ হাজার ৬৪১ জন, বাগেরহাটে মামলা ১ হাজার ৩৩৯টি এবং আসামি ৫৫ হাজার ২৫৬ জন, যশোরে মামলা ১ হাজার ৭২৬টি এবং আসামি ৬১ হাজার ৫৭৯ জন, নড়াইলে মামলা ১ হাজার ৫০৭টি এবং আসামি ৬০ হাজার ১৬৭ জন, কুষ্টিয়ায় মামলা ১ হাজার ৯৫৮টি এবং আসামি ৬৬ হাজার ৮৪৯ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় মামলা এক হাজার ৬১টি মামলায় আসামি ৪২ হাজার ৮৩ জন।
খুলনা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, খুলনা বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে ছিলাম না-আন্দোলনের কৌশলগত কারণেই রক্ষণাত্মক পন্থা অবলম্বন করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় শক্তি দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার হরণ করেছে, করছে। অবৈধ সরকারের লজ্জাজনক পতন অনিবার্য্য, শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, আত্মগোপনে নয়-দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। তবে কেন্দ্রের নির্দেশে গ্রেফতার এড়িয়ে চলতে কৌশল অবলম্বন করেছি। যদিও গ্রেফতার অভিযানে আমার শ্বশুর বাড়ী ও সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনের বাড়িসহ বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের বাড়ি-বাড়ি হানা দিয়েছে ভাঙচুর করে পুলিশ। দেশের সর্বাধিক মামলা দিয়ে খুলনা বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর ‘স্টিমরোলার’ চালানো হয়েছে, চালাচ্ছে। নিশ্চিয়ই এর শেষ হবে, হতেই হবে। জনগনের বিজয় হবেই, ইনশাআলাহ্।
