৬৯ রানেই ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন। মিরপুরের গ্যালারিতে হাজারখানেক দর্শকও তখন রীতিমত গর্জন-হুঙ্কারে ব্যস্ত। তবে সেখান থেকেই যেন নিউজিল্যান্ডকে পথ দেখালেন গ্লেন ফিলিপস আর মিচেল স্যান্টনার। প্রথম ইনিংসে এই ফিলিপসে ভর করেই লিড পেয়েছিল কিউইরা। ঢাকা টেস্টের শেষবেলাতেও ফিলিপসই হতাশ করলেন বাংলাদেশ। টাইগার ক্রিকেটভক্তরা আরও একবার দেখলেন তীরে এসে তরি ডোবানোর মত ম্যাচ।
১৩৭ রানের জয়টাকেও একসময় নিউজিল্যান্ডের জন্য কঠিন করে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছিল কিউই ব্যাটাররা।তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে গ্লেন ফিলিপস আর মিচেল স্যান্টনারের ৭০ রানের জুটিতে ৪ উইকেটের জয় পায় কিউইরা।
অথচ একটা সময় এই সাধারণ টার্গেটই যেন ছিল নিউজিল্যান্ডের ছিল বিশাল এক পাহাড়। ৫ রানেই ডেভন কনওয়ের উইকেটের পতন। ৩৩ রানের মাথায় কেইন উইলিয়ামসন আর হেনরি নিকোলসের ফিরে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছিল। এরপর টম ব্লান্ডেল-টম ল্যাথামদের উইকেট ফিরিয়ে জয়ের কক্ষপথেই ছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু গ্লেন ফিলিপস আর মিচেল স্যান্টনার খেলেছেন কার্যকরী ইনিংস। ফিলিপস চলতি সিরিজেরই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তার ব্যাটেই ভর করে জয়ের দিকে যেতে পারে নিউজিল্যান্ড। আর তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন স্যান্টনার। দুজন মিলে ৭৭ বলে করেছেন ৭০ রান। তাতেই মিরপুর টেস্টে জয়ের স্বাদ পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের দেওয়া ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও টম লাথাম ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই এ জুটিতে আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। শরিফুলের পেসে পরাস্ত হয়ে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন কনওয়ে। আউট হওয়ার আগে ২ রান করেন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু তিনিও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে তাইজুলের বলটি মিস করেন। পরে সেই সুযোগে স্ট্যাম্পিং করেন সোহান। এরপর বাইশ গজে নিজেদের মেলে ধরার আগেই সাজঘরের পথ ধরেছেন হেনরি নিকোলস । নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে কিউইরা।
এরপর টম লাথামের সঙ্গী হন ড্যারিল মিচেল। এই জুটিতেই ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা সাজায় কিউইরা। তবে খুব একটা পার্থক্য গড়তে পারেননি লাথাম-মিচেল। মিরাজের হাতেই বিদায় নেন লাথাম। ৬০ বল খেলে ফেলা লাথাম প্রথম স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ২৬ রান।
এমন হতাশার পর টম ব্লান্ডেল এসে সেটি আরও বাড়িয়ে দেন। মিরাজের আগের ওভারেই ব্লান্ডেলের সাজঘরে ফেরা হয়ে যেত। অল্পের জন্য এলবিডব্লিউ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্লান্ডেলকে পরের ওভারে সোহানের গ্লাভসে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাইজুল।
এদিকে প্রথম ইনিংসে ভয়ংকর হয়ে ওঠা গ্লেন ফিলিপস এবার ফিরতে পারতেন ডাক হয়ে। যদি না স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর হাত থেকে ক্যাচটা ফস্কে যেত। তবে শান্ত তৃপ্তি পেলেন মিচেলের ক্যাচ লুফে নিয়ে। মিরাজের বলেই রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে পাননি বল, এর আগেই তার গ্লাভসে হালকাভাবে স্পর্শ করে যায়।
আম্পায়ার বুঝতে না পারলেও বাংলাদেশ দল মাতে উদযাপনে। এরপর শান্ত রিভিউ নিয়ে ১৯ রান করে ফেলা মিচেলের আউট নিশ্চিত করেন। ৬৯ রানের আগেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। সপ্তম উইকেটে গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল স্যান্টনার ২১ রানের জুটি গড়ে চা বিরতিতে যায়।
তৃতীয় সেশনে মাঠে নেমেই জয়ের জন্য প্রয়োজন বাকি ৪৭ রান তুলে নেয় ফিলিপস-স্যান্টনার জুটি। ৪০ ওভারেই জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ড্র করে কিউইরা। পুরো ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন ফিলিপস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস) : ১৭২/১০ (৬৬.২) (জয় ১৪, মুশফিক ৩৫, দিপু ৩১, মিরাজ ২০; ফিলিপস ৩/৩১, স্যান্টনার ৩/৬৫)
নিউজিল্যান্ড (প্রথম ইনিংস) : ১৮০/১০ (৩৭.১ ওভার) (ফিলিপস ৮৭, জেমিসন ২০, মিচেল ১৮; মিরাজ ৩/৫৩, তাইজুল ৩/৬৪, নাইম ২/২১, শরিফুল ২/১৫)
বাংলাদেশ (দ্বিতীয় ইনিংস) : ১৪৪/১০ (৩৫ ওভার) (জাকির ৫৯, প্যাটেল ৬/৫৭)
নিউজিল্যান্ড (দ্বিতীয় ইনিংস) : ১৩৯/৬ (৩৯.৪ ওভার) (ফিলিপস ৪০*, স্যান্টনার ৩৫*, লাথাম ২৬; মিরাজ ৩/৫২, তাইজুল ২/৫৮)



