চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসার নামে নারীর সম্ভ্রমহানি, কবিরাজকে জবাই করে হত্যা করলেন স্বামী - জনবার্তা
ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসার নামে নারীর সম্ভ্রমহানি, কবিরাজকে জবাই করে হত্যা করলেন স্বামী

জনবার্তা প্রতিবেদন
জুন ৪, ২০২৪ ৪:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গায় কবিরাজ আব্দুর রাজ্জাক রাজাই (৫০) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল আসামি রুবেল মিয়া (২৩) ও সহযোগী সোহেল রানা (২০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলার পুলিশ সুপার আরএম ফয়জুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানিয়েছেন। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা সম্ভ্রমহানির প্রতিশোধ নিতে হত্যা করেছে বলে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের আব্দুর সেলিমের ছেলে রুবেল মিয়া ও একই এলাকার আনিসের ছেলে সোহেল রানা (২০)।

এ ঘটনায় ব্যবহৃত ধারালো চাকু, মোটরসাইকেল ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব আর এম ফয়জুর রহমান জানান, ভিকটিম আব্দুর রাজ্জাক কবিরাজি করে মানুষের বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা প্রদান করতেন।

আসামি রুবেল মিয়া ও তার স্ত্রী শারীরিক চিকিৎসার জন্য ভিকটিম আব্দুর রাজ্জাকের স্মরণাপন্ন হলে গত ৩১ মে সন্ধ্যায় আব্দুর রাজ্জাক জ্বিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে আসামি রুবেল ও তার স্ত্রীকে সদর থানার হোগলডাঙ্গা গ্রামের নবগঙ্গা ব্রিজ এলাকায় পান বরজের কাছে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং আসামিকে সিগারেট আনতে দোকানে পাঠায়।

কিছুক্ষণ পরে আসামি রুবেল পান বরজের এসে কবিরাজ রাজ্জাক ও তার স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে আসামীর স্ত্রীর মোবাইলে কল দিলে বন্ধ পায়। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে আনুমানিক ৩৫/৪০ মিনিট পরে ভিকটিম ও আসামির স্ত্রী পানবরজের কাছে ফিরে এসে তার স্ত্রীকে দেখে খারাপ কোনো কাজ করেছে বলে সন্দেহ পোষন করে।

পরবর্তীতে আসামি বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার স্ত্রী কান্নাকাটির একপর্যায়ে স্বীকার করে আব্দুর রাজ্জাক কবিরাজ চিকিৎসার দেওয়ার নামে সম্ভ্রমহানি করেছে।

ওই রাতেই আসামি রুবেল তার সহযোগী সোহেল রানাকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলে ডেকে মোটরসাইকেলে তুলে ধারালো ছুরি দিয়ে ভিকটিম আব্দুর রাজ্জাকের গলায় পোচ দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ফেলে দেয়।

গত ১ জুন সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নতুন ভান্ডারদহ-জুগিরহুদা রাস্তার পাশে মাঠ থেকে আব্দুর রাজ্জাক (৫০) নামে এক কবিরাজের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।