চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা - জনবার্তা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

জনবার্তা প্রতিবেদন
জুন ৩, ২০২৪ ২:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পলাশী বাজারে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে দোকানদারদের গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান এবং তার সহযোগী শহিদুল ইসলাম।

রবিবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মেহেদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। বর্তমানে তারা দুজনই চকবাজার থানায় আটক আছেন।

জানা যায়, চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় নজরুল এবং মাহবুব নামের দুই ব্যবসায়ীকে মারতে গেলে দোকানদাররা ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীকে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাদের। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চকবাজার থানায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

দোকানদাররা জানান, প্রায় প্রতিদিন চাঁদাবাজি করতে আসে সলিমুল্লাহ হল ছাত্রলীগের এই সাবেক সভাপতি ও তার সহযোগী শহিদুল। এর আগে পলাশী বাজারের কলা বিক্রেতা দেলোয়ারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা এবং কনফেকশনারি দোকানের মালিক সানাউল্লাহর কাছ থেকে টাকা নেন তারা। এছাড়া এই বাজার তারা প্রতিদিন চাঁদাবাজি করেন বলে জানান একাধিক দোকান মালিক।

পলাশী দোকান মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক বলেন, “রাত ১১টার দিকে এসে এই ছাত্রলীগ নেতা আমাদের দোকানিদের থেকে চাঁদা দাবি করে। তাকে বাধা দিলে সে নজরুল নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে এবং চাপাতি দিয়ে কোপাতে যায়। পরে সে পালিয়ে গেলে আমাকে চাপাতি দিয়ে মারতে আসে। আশপাশে থাকা দোকানিরা আমাকে উদ্ধার করে এবং তাদের ধরে ফেলে। তারপর সবাই মিলে গণপিটুনি দেয়। পরে আমরা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে নিয়ে যায়।”

আরেক ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, “চাঁদা চাইতে এলে আমরা তাকে বাধা দিই। তাতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথম আমাকে ঘুসি মারে এবং পরবর্তীতে চাপাতি নিয়ে আসে। কিন্তু আমি সরে যাই। তাদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। নিয়মিত অত্যাচার এবং চাঁদাবাজি করে তারা।”

পলাশী বাজারের আরেক ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ বলেন, “তারা দুজন নিয়মিত চাঁদাবাজি করতে আসে বাজারে। আমরা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারি না। আজকে মারতে এলে আমরা সবাই ধরে তাদের গণপিটুনি দিই এবং পুলিশের হাতে তুলে দিই। আমরা এই চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি চাই।”

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সলিমুল্লাহ হল থেকে মাদক এবং নারীসহ আটক হন এই নেতা। সেসময় হল প্রশাসন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের হাতে তুলে দেয়।

এর আগে ২০১৪ সালে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় ছাত্রলীগ। মদের বারে মারামারি করার কারণে তাকে অব্যহতি দেয় সংগঠনটি।