বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ. টি. এম মা’ছুম বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানব-জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। মহান রাব্বুল আলামিন তাঁকে সর্বোত্তম আদর্শের উপর অধিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর সকল কাজ, কথা, আচার-আচরণ ও উপদেশ মানবজাতির জন্য অনুকরণীয়-অনুসরণীয়। তিনি বলেন, মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি সার্বজনীন আদর্শের প্রবক্তা ছিলেন। নির্দিষ্ট কোন ভুখন্ড বা নির্দিষ্ট ভাষাভাষীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি দুনিয়ায় আসেননি। সমগ্র মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ সাধনের দায়িত্ব নিয়েই পৃথিবীতে এসেছিলেন। তিনি দ্বীনের পরিপূর্ণ বিজয়ের জন্য এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। প্রিয় নবী ইসলামী বিপ্লবের স্থপতি ছিলেন। ইসলামী বিপ্লবের তিনি সর্বকালের লিডার ছিলেন। আর কেউ ছিলো না, আর কেউ নেই, কেউ থাকতে পারে না। তার কাছা কাছিও থাকতে পারে না। সকল যুগে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যারা স্বপ্ন দেখে তারই পদাঙ্ক পরিপূর্ণভাবে সবাইকে অনুসরণ করতে হবে, বিকল্প কোন পথ খোলা তাদের জন্য নেই। কোন বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়েও এই পথের সফলতা আনয়ন করা সম্ভব নয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় নগরীর একটি মিলনায়তনে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ সাধনের দায়িত্ব নিয়েই
রাসুল (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন : মাওলানা এ.টি.এম মা’ছুম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ও আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান, কুস্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. মো. কামরুল হাসান। মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের পরিচালনায় আলোচক ছিলেন খুলনা দারুল উলুম মাদরাসার মুহাদ্দিস ম্ওালানা নাসির উদ্দীন কাসেমী, মহানগরীর ট্রাস্ট বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা অ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, তালিমুল কুরআনের বিভাগীয় সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক। উপস্থিত ছিলেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী। কুরআন তেলাওয়াত করেন ড. তহিরুল ইসলাম ত্বহা ও ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাইফুল ইসলাম ফারুক।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, রাসূলের (সা.) জীবন হচ্ছে কুরআনি আদর্শের বাস্তব রূপায়ন। মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘রাসূলের জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।’ যে আদর্শ দেড় হাজার বছর ধরে মানুষের মধ্যে জীবন গড়ার অতুলনীয় উৎস হিসেবে কাজ করে চলেছে। মানুষ কীভাবে আদর্শ জীবনযাপন করতে পারে, সুন্দর সমাজ ও দেশ গড়তে পারে, মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এক শান্তিময় বিশ্বের অধিবাসী হতে পারে হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর কর্ম দিয়ে, আচরণ দিয়ে, উপদেশ দিয়ে প্রকৃতপক্ষে তারই পথনির্দেশ দিয়ে গেছেন। তাঁর মহান জীবনের প্রতিটি ধারায় অনুশীলনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সমূহে সমৃদ্ধ জীবন চরিত্রই হতে পারে আমাদের কল্যাণ লাভের জন্য এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তিনি বলেন, জীবনকে সুখময়, শান্তিময়, কল্যাণমুখী করতে হলে, পরিপূর্ণ মানবগুণে নিজের চরিত্রকে উজ্জ্বল করতে হলে, রাসূল (সা.) -এর জীবন থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। এই জীবনের কোনো বিকল্প নেই।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাসুল (সা.) মানুষের চিন্তার পরিশুদ্ধির জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি নৈতিক এবং চারিত্রিক বিপ্লব সাধন করেছিলেন। তিনি চারিত্রিক বিপ্লব দিয়েই সমাজকে বিমোহিত করেছিলেন এবং মানুষকে আকৃষ্ট করেছিলেন। ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান তা তিনি প্রতিষ্ঠিত করে প্রথিবীর ইতিহাসে মদিনার ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেছিলেন। রাসূল (সা.) তার কর্মসূচির বিশুদ্ধতা, যুগ উপযোগিতা পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী যখন যা গ্রহণ করা প্রয়োজন সেই পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেছিলেন। নেতৃত্ব সূলভ মহান গুণাবলী এই বিপ্লব সফল করার পিছনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। এছাড়াও তার সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আহবানের বাস্তব কৌশল তিনি যেটি প্রয়োগ করেছিলেন এই বিপ্লব সফল হওয়ার পিছনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি এবং তার সঙ্গী সাথী যারা ছিলেন আল্লাহ প্রদত্ত বিধানকে তারা আংশিকভাবে নয় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করেছিলেন। নিফাক আমরা তাদের জীবনে দেখতে পাই না। যাদের মধ্যে নিফাক ছিল তারা এই কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এই পবিত্র কাফেলার তাদের স্থান ছিলো না। তারা ঝরে পড়েছিল, ছাটাই হয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, শাহাদাতের রক্তে প্লাবিত এই জমিন! এখানে দ্বীনের দুশমনেরা টিকতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। দিন শেষে এখানে আল্লার দ্বীনি বিজয় হবে এ কারণেই আমাদেরকে হতাশ হওয়া যাবে না নিরাশ হওয়া যাবে না। আমাদের নিখাঁদ ঈমানের অধিকারী হতে হবে, রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের শেখানো পথেই আমাদের এগুতে হবে। জালিম শাহীর নির্যাতনের কঠিন স্তর অতিক্রম করে মহামহিম আল্লাহর নাম নিয়েই আমাদের মঞ্জিলে পৌঁছার চুড়ান্ত চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। চরম মুহুর্তে সাহাবীদের ন্যায় আহাদ আহাদ ধ্বনিই যেন আমাদের একমাত্র সম্বল হয় এই প্রত্যাশাই যেন সবার জীবনে অনুরণিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তিনি যেমন ছিলেন ইনসানে কামেল তথা পরিপূর্ণ মানুষ, তেমনই ছিলেন একজন পরিপূর্ণ আদর্শ যুবক। পৃথিবীতে যত ভালো গুণ আছে, এর সব গুণের সমাবেশ ঘটেছিল একজন মুহাম্মদ (সা.) এর মধ্যে। সেই সব গুনের অধিকার আমাদেরকেই হতে হবে।
