রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ফাঁকা খাম দিয়ে টাকাভর্তি খাম নিয়ে সেটি নিজের টেবিলের ড্রয়ারে রাখতে দেখা গেছে।
শুক্রবার (৫ জুলাই) রাতে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি মাহবুব আলমের সামনে চেয়ারে এক ব্যক্তি বসে আছেন। ওসির সঙ্গে তিনি কথোপকথন করছিলেন। ওই ব্যক্তি বলেন, ‘মাহবুব ভাই, ভাই উঠব ভাই। একটু কথা বলে যাই।’ তখন ওসি বলেন, ‘হুম’।
এরপর ওই ব্যক্তি ওসিকে বলেন, ‘ভাই, একটা ছোট খাম দেন।’ ওসি তখন মুচকি হাসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি বলেন, ‘মাহবুব ভাই, আপনি আমাকে চিনেন, জানেন, বোঝেন। আমি বিপদে পড়সি বলেই আপনার কাছে আসছি ভাই। আমি বিপদেই পড়ি।’
এ সময় ওসি মাহবুব আলম আবারও মুচকি হাসেন। সামনে থাকা ব্যক্তিটি বলেন, ‘দেন একটা খাম দেন।’ এ সময় মাহবুব আলম তার টেবিলের ড্রয়ার টেনে একটি খাম বের করে দেন। এরপর ওসি আরেক ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘দিলাম ভাই, বুইঝেন। তাকে অবশ্য আগেরটাও আমি হেল্প করসি।’
খাম চাওয়া ব্যক্তিটি তখন বলেন, ‘আমি জানি, আমি মাহবুব ভাইয়ের কাছে আসলে ভাই কাজ হবে।’ এ সময় ওসি বলেন, ‘না, যথেষ্ট হেল্প করসি।’
সর্বশেষ কথাবার্তার মাঝে তিনি ফাঁকা খামটি ভর্তি করে ওসিকে দেন। ওসি মাহবুব আলম সেটি নিয়ে তার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দেন।
ব্যক্তিটি ওসিকে বলেন, ‘আমি না পারতে এ পর্যন্ত আসলাম। বিশ্বাস করেন! আমি আরেকদিন এসে ডিটেইলস বলব তখন বুঝবেন ও আমাকে কী পর্যায়ে পেরেশানিতে নিয়ে আসছে। না হলে আমি আপনার কাছে আসতাম না যদি অফিসিয়ালি সলিউশন করতে পারতাম আমি। সে জিএম স্যারের কাছে ৪০ জন লোক নিয়ে গেছে রিমুভ ফরম সার্ভিস করার জন্যে আমার বোনের। আমি কী বোঝাবো বলেন! অন্যায় যে করে, আর যে সহে- দুজনে সমান অপরাধী।’ অবশ্য খামে টাকা দেওয়া ব্যক্তিটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে খামে টাকা নয়, ছিনতাইকারীদের তালিকা নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ওসি মাহবুব আলম। তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। খামে ছিনতাইকারীদের তালিকা নিয়েছিলাম। ওসি বলেন, আমি পাবলিকের কাছ থেকে টাকা খাই না।
এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম কোনো বিষয় আমি জানা নেই। এ রকম কিছু যদি হয়ে থাকে, তাহলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’
