কুবি শিক্ষার্থী ইকবালের বহিষ্কারাদেশ হাইকোর্টে স্থগিত - জনবার্তা
ঢাকা, বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুবি শিক্ষার্থী ইকবালের বহিষ্কারাদেশ হাইকোর্টে স্থগিত

জনবার্তা প্রতিবেদন
আগস্ট ১৪, ২০২৩ ১:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভিসির বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিনিধি ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে করা রিটের শুনানিতে সোমবার (১৪ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো.আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের ওপর শুনানিতে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।

তিনি জানান, বহিষ্কার আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত, কোনো কারণে তাকে বহিষ্কার করতে পারবে না। একইসঙ্গে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইউজিসি চেয়ারম্যান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি), উপ-উপাচার্য (প্রো ভিসি), রেজিস্টার, প্রক্টর, জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যানকে বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মোস্তবিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।

এর আগে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ আট জনকে লিগ্যাল (আইনি) নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

গত বুধবার (৯ আগস্ট) ইকবাল মনোয়ারের পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। এতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চাওয়া হয়। নোটিশ অনুযায়ী তিনদিনের মধ্যে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করায় সংবিধানের ১০২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতে বহিষ্কারাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়।

রিটে বলা হয়, যে অফিস আদেশের মাধ্যমে ইকবালকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সে আদেশে কোনো আইন বা বিধির উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া তার সংবাদে উপাচার্যের বক্তব্য বিকৃতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উপাচার্য তার ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই ইকবালকে বহিষ্কার করেছেন। এছাড়া ৬ আগস্ট সংশ্লিষ্ট সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়ে ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে উপাচার্যের নিকট চিঠি দিয়েছেন ইকবাল। এখন পর্যন্ত চিঠির কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

আরও বলা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, শৃঙ্খলা বোর্ড থাকার কথা থাকলেও সে সংক্রান্ত কোনো বোর্ড এবং বিধি তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বেআইনি ও এখতিয়ার বহির্ভূত।

‘ইকবাল তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। এর সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কোনো সংবাদের বিষয়ে যদি উপাচার্য সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন, তাহলে তার প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার অধিকার রয়েছে। তা না করে ইকবালকে বহিষ্কার করে উপাচার্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ইকবাল সংবাদকর্মী হিসেবে শুধু উপাচার্যের হুবহু বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এর অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে।’

সংবাদ প্রকাশের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ (২)(খ) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন করেছেন মর্মে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩১ জুলাই উপাচার্যের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ২ আগস্ট দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিনিধি ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে প্রশাসন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।

‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর ৩২ নং ধারা অনুযায়ী শৃঙ্খলা বোর্ড থাকার কথা থাকলেও সে সংক্রান্ত কোনো বোর্ড এবং বিধি তৈরি হয়নি। এই অবস্থায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বেআইনি ও এখতিয়ার বহির্ভূত বলে জানান শিহাব উদ্দিন খান।

তিনি আরও জানান, কোনো সংবাদের বিষয়ে যদি উপাচার্য সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন, তাহলে তার প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার অধিকার রয়েছে। তা না করে ইকবালকে বহিষ্কার করে উপাচার্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইকবাল সংবাদকর্মী হিসেবে শুধুমাত্র উপাচার্যের হুবহু বক্তব্য তুলে ধরেছেন যার অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯(২)(খ) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন করেছে।

এছাড়াও ইকবালকে তার অবস্থান ব্যাখ্যার জন্য কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়ে বহিষ্কারাদেশ দেওয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির চূড়ান্ত লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।