সুন্দরবনের স্মার্ট বাহিনীর গুলিতে জেলে আহত - জনবার্তা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরবনের স্মার্ট বাহিনীর গুলিতে জেলে আহত

জনবার্তা প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৩ ২:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়ায় বন বিভাগের স্মার্ট বাহিনীর (টহল টিম) ধাওয়া ও গুলিবর্ষণে জয়নাল মাঝি (৩০) নামের এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এতে জয়নালের ডান হাতে গুলি লাগে এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে সুন্দরবনের কচিখালী-কটকা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে কচিখালী কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় আহত জয়নালকে উদ্ধার করে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে বলে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আহত জয়নাল মাঝি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের আ. রশিদ মিয়ার ছেলে।

আহত জয়নাল বলেন, সুন্দরবন এলাকায় মাছ ধরাতে বন বিভাগের স্মার্ট বাহিনীকে টাকা দিতে হয়। চলতি মাসের টাকা না দেওয়ায় ভোররাত ৩টার দিকে বলেশ্বর নদ সংলগ্ন সুন্দরবনের কচিখালী-কটকা এলাকায় মাছ ধরার সময় বন বিভাগের স্মার্ট বাহিনী (টহল টিম) তাদের ধাওয়া করে। এ সময় টলার নিয়ে দ্রুত যাওয়ার সময় স্মার্ট বাহিনী তাদেরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। তখন স্মার্ট বাহিনীর গুলি জয়নালের ডান হাতে লাগে। পরে স্মার্ট বাহিনী চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, আগে জলদস্যুদের বছরে একবার টাকা দিলে নিরাপদে মাছ শিকার করা যেত। এখন সরকারের তৈরি স্মার্ট বাহিনীকে প্রতি মাসে ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার করে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, সুন্দরবন এলাকায় মাছ ধরতে হলে স্মার্ট বাহিনীকে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে জেলেদের ট্রলার আটকে রেখে নির্যাতন করে। বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করেছি এবং আবারো করবো।

পাথরঘাটা থানার ওসি (তদন্ত) সাইফুজ্জামান বলেন, এক জেলে বন বিভাগের স্মার্ট বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে এমন খবর শুনেছি। তবে আমরা হাসপাতালে যাওয়ার আগেই তাকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয় বন বিভাগের কচিখালী বিট কর্মকর্তা আ. ছবুরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোন ফোন দিলে এ বিষয়ে এসিএফ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ফোন কেটে দিয়ে মুঠোফোনটি বন্ধ করে দেন।