সকল বাধা উপেক্ষা করে ১০ ডিসেম্বর সফল সমাবেশ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, যতই নিপীড়ণ-নির্যাতন চালানো হোক, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সর্বকালের নজীরবিহীন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সকল বাধা অতিক্রম করে এই গণসমাবেশে উপস্থিত হতে সংগ্রামী জনগণ আপোষহীন লক্ষ্যে স্থির।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আসামি করা হচ্ছে, গ্রেফতারের নামে দিনে-রাতে বাসায় পুলিশ হানা দিয়ে পরিবারের লোকজনদের সাথে অশালীনভাবে দুর্ব্যবহার করছে। এই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করতে বর্তমানে জনগণের বিপুল উত্থান দেখে অবৈধ সরকার দিশেহারা হয়ে প্রতিহিংসার আচরণ শুরু করেছে। বিরোধী দলের টুঁটি চেপে ধরার জন্য এরা রাষ্ট্রশক্তিতে নির্বিচারে ব্যবহার করছে।
তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশের দিন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রস্তুত থাকবে। বিএনপি তো গণসমাবেশ করবে, আর গণসমাবেশে মানুষের উপস্থিতিটাই একটি রাজনৈতিক দলের বড় অর্জন। সুতরাং সমাবেশকে সফল করতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অপরিহার্য, সেটি রক্ষার জন্য একটি রাজনৈতিক দল সর্বাত্মক উদ্যোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এখানে তো সংঘাতের কোনো প্রশ্নই আসে না। মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর মনের ইচ্ছার হুবহু প্রতিধ্বনি। তবে আওয়ামী সরকার তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রকামী বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্তিকামী কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তারা অবিচল। রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করেও তাদের কণ্ঠের উচ্চারণকে থামানো যাবে না।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে-বাড়িতে তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে পুলিশ। এ সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা-এম এ রশিদ, ডিপুটি মেয়র আনোয়ার হোসেন, আশরাফ আলী ভুলু, আসলাম, রিপন, সিদ্দীক মেম্বার ও দীপক ভূইয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে। এই মামলায় আরো আসামি করা হয় ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকসহ ১০৯ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে।
