বড় রাজনীতিবিদ ও আমলারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যায় কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ‘তারা তো এই দেশের নাগরিক। এই দেশের নাগরিকদের দেওয়া অর্থ দিয়ে তারা সুযোগ সুবিধা নেন। কিন্তু তারা দেশে চিকিৎসা না করে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যায় কেন?
বুধবার (১৫ নভেম্বর) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনে ১০৪ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনার রায় প্রকাশের সময় এমন মন্তব্য করেন। রায়ে একটি স্বাধীন জাতীয় ভেজাল ঔষধ প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশের বিষয়টি জানিয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘রায়ে আদালত মন্তব্য করেছে আমাদের দেশের বড় রাজনীতিবিদ ও আমলারা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যায় কেন? তারা তো এই দেশের নাগরিক। এই দেশের নাগরিকদের দেওয়া অর্থ দিয়ে তারা সংসদ থেকে সুযোগ সুবিধা নেন। আর তারা দেশে চিকিৎসা না করে কেন বিদেশে চিকিৎসা নিতে যায়।?
রায়ে চারটি নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। এগুলো হলো— ১. প্রত্যেক ব্যক্তির বিনামূল্যে সকল প্রকার চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া তার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার এবং এ অধিকার তার বেঁচে থাকার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা।
২. ওষুধে ভেজাল মিশ্রণ বন্ধে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (সি) মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রতিপক্ষদের নির্দেশ প্রদান।
৩. ১৯৯১ সালে ৭৬ জন এবং ২০০৯ সালে ২৮ জন শিশুর মৃত্যু ঔষধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের কঠিন দায়।
৪. ১৯৯১ সালের ৭৬ জন এবং ২০০৯ সালের ২৮ শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা হারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য ঔষধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ। ঔষধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ ওই ক্ষতিপূরণের টাকা সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি, ওষুধ কোম্পানি থেকে আদায় করতে পারবেন।
সূত্র ঢাকা মেইল
