চুয়াডাঙ্গায় তাপপ্রবাহ: খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধ - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় তাপপ্রবাহ: খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধ

জনবার্তা প্রতিবেদন
মে ৮, ২০২৫ ৪:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গায় বিরামহীন দাবদাহে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ। আজ বৃহস্পতিবার (০৮ মে) বিকেল ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ‘বর্তমানে জেলার উপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ বিকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।’

গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ। রোজগারের তাগিদে তাদের রোদ আর দাবদাহ উপেক্ষা করেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

ভ্যানচালক ইব্রাহিম বলেন, ‘ভাই, কী যে কষ্ট এই গরমে! শরীর ভিজে যায় ঘামে। কিন্তু বসে থাকলে তো সংসার চলবে না, তাই জোর করে রাস্তায় বের হই। রাস্তায় মাথা ঘুরায়, আবার পানিও ঠিকমতো পাই না।’

পথচারী আলামীন জানান, ‘এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরি কাজে, কিন্তু রাস্তায় দাঁড়ালে মনে হয় আগুন ঝরছে। মাথা গরম হয়ে যায়, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। গা ঘেমে একেবারে শুকিয়ে যায়।’

দিনমজুর সোনা মিয়া বলেন, ‘গরিব মানুষ আমরা, রোজগার না করলে বাড়ির চুলা জ্বলবে না। এই গরমে কাজ করলে শরীর ধরে আসে, কিন্তু কী করব?’

এই অস্বাভাবিক গরমে শুধু শ্রমজীবী নয়, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ঘামজনিত সমস্যার রোগী বাড়ছে বলেও জানা গেছে।