সিরাজগঞ্জে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এক প্রার্থীর পক্ষে গোপন বৈঠকের অভিযোগে ৫ প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সদর উপজেলায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গোপনে বৈঠকের অভিযোগ ওঠেছে। এ অভিযোগে হঠাৎ জেলা-উপজেলা প্রশাসন হাজির হলে ঘটনাস্থলে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। রোববার রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের বনবাড়িয়া কাদাই পার্কে ঘটে এ ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টা থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন কিছু ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করছিলেন। পরে বিষয়টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। এরপর তারা ঘটনাস্থলে এলে রিয়াজ উদ্দিন ও তার লোকজন পালিয়ে যান।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়ে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী গোপন বৈঠক করছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বা চেয়ারম্যানের সমর্থক কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই পার্কের তিনজনকে থানায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে পার্কের মূল ফটকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে কোনো প্রার্থী বা প্রিসাইডিং অফিসারকে পাইনি।
এ প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রথম ধাপে আগামী বুধবার (৮ মে) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে পাঁচজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তারা হলেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা রিয়াজ উদ্দিন (আনারস), জেলা যুবলীগের আহŸায়ক রাশেদ ইউসুফ (দোয়াত-কলম), জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এস এম আহসান হাবীব (ঘোড়া), বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এস এম নাছিম পূরেজা নূর দিপু (মোটরসাইকেল) ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম (কাপ-পিরিচ)।
