চলতি মাসের শুরুতে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিস থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। তারপরই এ শহরের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়।
হাসপাতালে আবিষ্কৃত গণকবরটি থেকে প্রায় ৩০০টির মত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।
খান ইউনিসের সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক কর্নেল ইয়ামেন আবু সুলেমান সিএনএনকে বলেন, “নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে পাওয়া গণকবর থেকে সোমবার ৭৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৮৩টি মরদেহ পাওয়া গেল এ গণকবরে।”
তিনি অভিযোগ জানান যে, “কিছু মৃতদেহ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে তাদের ফাঁসির চিহ্ন রয়েছে। তাদের জীবিত কবর দেওয়া হয়েছিল নাকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তা জানা যায়নি।“ তবে বেশিরভাগ মৃতদেহই পচে গেছে বলেও জানান সুলেমান।
এর আগে খান ইউনিসের সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র এবং অনুসন্ধান মিশনের প্রধান, রায়েদ সাকার সিএনএনকে জানিয়েছিলেন যে, ৭ এপ্রিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের সদস্যদের প্রত্যাহারের পর থেকে তারা ৪০০ নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান করছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএন ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাথে যোগাযোগ ও প্রশ্ন করা হলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিএনএনের একজন প্রতিনিধি জানান, ইসরায়েলের হামলায় বাস্তুচ্যুত মানুষেরা যারা এই হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের পরিবারের নিহত সদস্যদের এই হাসপাতালের মাঠে কবর দিয়েছিলেন।
আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল তাইওয়ানআবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল তাইওয়ান
পরবর্তীতে ইসরায়েলি অভিযানের কারণে স্থান ত্যাগ ও সেনা প্রত্যাহারের পর ফিরে আসার পর তারা তাদের পরিবারের নিহত সদস্যদের মৃতদেহগুলো নির্দিষ্ট স্থানে পাননি।
ধারণা করা হচ্ছে, গাজায় বন্দী কোনো জিম্মির মৃতদেহ এখানে আছে কিনা তা শনাক্তে আইডিএফ এসব মৃতদেহ উত্তোলন ও ডিএনএ পরীক্ষা করেছে। তারপরে সবগুলো মৃতদেহ আবার একটি গণকবরে রাখা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে, ফিরে আসা অনেক ফিলিস্তিনি তাকে জানিয়েছেন যে তাদের পরিবারের নিহত সদস্যদের মরদেহ নির্দিষ্ট স্থানে পাচ্ছেন না তারা।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলে জিম্মি শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য গাজা থেকে কয়েক ডজন মৃতদেহ সরিয়েছে।
