কক্সবাজার-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেনে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫০০ - জনবার্তা
ঢাকা, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কক্সবাজার-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেনে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫০০

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ১৩, ২০২৩ ২:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সদ্য উদ্বোধন হওয়া ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রেনের ভাড়া প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চূড়ান্ত হওয়া তালিকায় দেখা গেছে, সর্বনিম্ন ১২৫ টাকা ভাড়ায় ২য় (সাধারণ) শ্রেনিতে যাওয়া যাবে ঢাকা থেকে কক্সবাজার। অন্যদিকে এসি বার্থ (শুয়ে ভ্রমণ) শ্রেণির ভাড়া ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ১৭২৫ টাকা।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী। তবে কোন কোন ট্রেন এ রুটে চলবে তা ঠিক হয়নি বলেও জানান তিনি।

ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী দেখা গেছে, কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে রামু রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া পাঁচ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ১৫ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ২০ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ৩৫ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ৪৫ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫০ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ১০৪ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া ১২৭ টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ১১৫ টাকা; এসি সিটের ভাড়া ১২৭ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া ১৫০ টাকা।

ইসলামাবাদ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া ১১ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ১৫ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ২০ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ৩৫ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ৪৫ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫০ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ১০৪ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া ১২৭ টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ১১৫ টাকা; এসি সিটের ভাড়া ১২৭ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া ১৫০ টাকা।

ডুলাহাজরা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ৪৯ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া ১৫ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ২০ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ২৫ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ৩৫ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ৫০ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৬০ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ১০৪ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া ১৩৩ টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ১১৫ টাকা; এসি সিটের ভাড়া ১৩৩ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া ২০২ টাকা।

চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ৬৬ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া ২০ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ৩০ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ৩৫ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ৪০ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ৬৫ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৮০ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ১২১ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া ১৭৯ টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ১৫০ টাকা; এসি সিটের ভাড়া ১৭৯ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া ২৭১ টাকা।

হারবাং রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া ৩০ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ৪০ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ৪৫ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ৫৫ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ৯০ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ১১০ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ১৬৭ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া ২৪৮ টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ২০৭ টাকা; এসি সিটের ভাড়া ২৪৮ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া ৩৬৮ টাকা।

লোহাগাড়া রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ১০৬ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া ৩৫ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ৪৫ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ৫৫ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ৬৫ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ১০৫ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ১২৫ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ১৯০ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া ২৮৮ টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ২৩৬ টাকা; এসি সিটের ভাড়া ২৮৮ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া ৪২৬ টাকা।

সাতকানিয়া রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ১২২ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া ৩৫ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ৫০ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ৬০ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ৭০ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ১১৫ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ১৪০ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ২১৩ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া ৩২২ টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ২৬৫ টাকা; এসি সিটের ভাড়া ৩২২ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া ৪৭৮ টাকা।

দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ১৩৯ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া ৪০ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ৫৫ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ৬৫ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ৮০ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ১৩০ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ১৫৫ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ২৩৬ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া ৩৫৭ টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ২৯৯ টাকা; এসি সিটের ভাড়া ৩৫৭ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া ৫৩৫ টাকা।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ১৮৯ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া ৫৫ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ৭০ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ৮৫ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ১০৫ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ১৭০ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ২০৫ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ২৭০ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া ৪০৫ টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ৩৮৬ টাকা; এসি সিটের ভাড়া ৪৬৬ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া ৬৯৬ টাকা।

এবং ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া আদায়যোগ্য পথের দূরত্ব ৫৩৫ কিলোমিটার। এই পথে দ্বিতীয় সাধারণ শ্রেণির ট্রেনের ভাড়া ১২৫ টাকা; মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ১৭০ টাকা; কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ২১০ টাকা; সুলভ শ্রেণির ভাড়া ২৫০ টাকা; শোভন শ্রেণির ভাড়া ৪২০ টাকা; আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫০০ টাকা; প্রথম শ্রেণির চেয়ারের ভাড়া ৬৭০ টাকা; প্রথম বার্থ শ্রেণির ভাড়া এক হাজার টাকা; স্নিগ্ধা শ্রেণির (এসি চেয়ার) ভাড়া ৯৬১ টাকা; এসি সিটের ভাড়া এক হাজার ১৫০ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণির ভাড়া এক হাজার ৭২৫ টাকা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজারে ট্রেন চালাতে আমরা প্রস্তুত। প্রথম ট্রেনটি চলাচল শুরু করবে ঢাকা থেকে। দ্বিতীয় বাণিজ্যিক ট্রেনটি চলবে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম।

কক্সবাজারকে ঘিরে অন্তত ছয় জোড়া ট্রেনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হলেও শুরুতে দুই কিংবা তিন জোড়া ট্রেন চালানো হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি ট্রেনগুলো চালানো হবে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহিদুল ইসলাম।

গত ১১ নভেম্বর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি নির্মিত দেশের প্রথম এবং এশিয়ার বৃহত্তম দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলস্টেশন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রেলস্টেশন চত্বরে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পের রেল চলাচলও উদ্বোধন করেন তিনি।

এর আগে সম্প্রতি রেল সচিব হুমায়ুন কবির বলেন, ১ ডিসেম্বর শুধু আন্তনগর ট্রেন চালু হবে। পরে কমিউটার ও মেইল ট্রেনও চালু হবে। ভবিষ্যতে এই রুটে পর্যটক কোচ চালু করা হবে। শুধু ঢাকা নয়, উত্তরাঞ্চল ও দেশের অন্যান্য অংশ থেকেও কক্সবাজারে রেলপথে আসা যাবে। এতে করে যোগাযোগের নতুন পথ উন্মোচন হবে।

১ ডিসেম্বর রেল চালু হলেও কক্সবাজারের আইকনিক ঝিনুক স্টেশনে সবরকম সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে জানিয়ে রেল সচিব বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব সুবিধা চালু হবে।